Call Now

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা এবং করণীয়

ফেসবুক খুললেই দেখি সহজে আয় করুন মাসে ৫০ হাজার, ইউটিউবে গিয়ে দেখি “আমি কিভাবে ৩০ হাজার ডলার আয় করলাম” এ ধরণের বিজ্ঞাপন। এ দেশের মানুষ প্রতারিত এবং আশাহত। আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য আমাদের তরুণ সমাজ তথা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পুরো বিষয়টিকে তুলে ধরা এবং আসল ঘটনাটা কি সেটা জানানো।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে যত ভুল ধারণা

আপনারা হয়ত জানেন যে আমি ২০০৭ সালে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করা শুরু করি এবং ২০১৪ সালে আমি বেসিস থেকে দেশসেরা ফ্রিল্যান্সার সম্মাননা অর্জন করি এছাড়াও আমি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্কেটিপ্লেস আপওয়ার্ক এর ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে ইল্যান্স-ওডেস্ক (বর্তমান আপওয়ার্ক) এ্যানুয়াল ইম্প্যাক্ট রিপোর্টে উঠে আসে আমার গল্প। আমার মনে আছে আমি যখন ২০১৪ সালে বেসিস থেকে এ্যাওয়ার্ড পাই তখন আমার ব্যাংকে বিদেশ থেকে টাকা আসার প্রমাণস্বরূপ আমি ১ লক্ষ ২০ হাজার ডলার আয়ের যথাযথ প্রমাণ দাখিল করি।

ফেসবুক এড নিয়ে আর চিন্তা নয়! টি৩ তে সব হয়।

এড একাউন্ট নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

Click Here
Article Continues

এত কিছুর পরও আজ পর্যন্ত কখনোই ফ্রিল্যান্সার হয়ে যান ২ দিনে/যেভাবে আমি ১ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছি/৩০ দিনে আয় করুন লাখ টাকা এই শিরোনামে আমি কোন আর্টিকেল কিংবা ভিডিও তৈরি করিনি। কেন? কারণ একটাই আর সেটি হল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এমন একটি জায়গা যেখানে আপনার দক্ষতাকে আপনি বিক্রয় করবেন, এ নিয়ে এত মাতামাতির কিছু নেই। বরং আমাদের কে দক্ষ হতে হবে, যে যে স্কিলের চাহিদা রয়েছে। তবে এই ডলার আয়ের সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অসাধু মানুষ-রা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা এবং এমন মানুষদেরও এরকম আয় করতে দেখেছি যারা কিনা কোনদিন ১ ডলারও আয় করেননি। আর এসব কারণেই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা এবং সম্মান দুটোই কমে গিয়েছে শুধু তাই নয় সামনের দিনগুলো আরো ভয়ংকর হবে বলে আমার ধারণা।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ৩০ দিনে ৫ লাখ, ১ বছরে ৩০ লাখ টাকা আয়ের গল্প যারা শোনান আপনি তাদের কে আনফলো করা শুরু করে দিন আর দক্ষতা বাড়ান, মার্কেট রিসার্চ করেন, ৫ বছরে আপনি একটি টেকসই ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। আপনি যদি অনেক দূর এগোতে চান তাহলে সূদুরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে আপনাকে। আপনাকে গড়ে তুলতে হবে একটি টেকসই ক্যারিয়ার।

Free Training

on Strategic & Data Driven Facebook Marketing

Enroll Now for FREE
Article Continues

এবার আসা যাক মূল আলোচনায়। আপনি ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইভার, আপওয়ার্ক কিংবা অন্য কোন মার্কেটপ্লেসে। ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা সারা বিশ্বব্যাপী, শুধু বিদেশ থেকে নয় বাংলাদেশেও রয়েছে অনেক চাহিদা।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভারে সফল হবার পদ্ধতি

সফলভাবে চা বানাতে গেলে বা ভাত রাঁধতে গেলে যেমন একটি পদ্ধতি আছে যেটাকে কর্পোরেট ভাষায় SOP (Stanadard Operational Procedure) বলা হয়ে থাকে। চলুন দেখে নেয়া যাক আপনার এই পুরো প্রক্রিয়াতে সফল হতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের প্রথম ধাপঃ এ্যাকাউন্ট তৈরি

সত্যি বলতে গেলে আমরা মার্কেট রিসার্চ না করেই ডলার আয় করা নামক মরীচিকার পেছনে ছুটতে থাকি যেটি সম্পূর্ণ ভূল ধারণা। এবার আসা যাক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের ব্যাপারে রিসার্চ করবেন কিভাবে। আপনি প্রথমেই নিচের লিঙ্কে গিয়ে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে একটি এ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুনঃ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের দ্বিতীয় ধাপঃ বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল দেখা

এ পর্যায়ে আপনি যদি আপনি Digital Marketing ক্যাটেগরির Web Analytics সেকশনে যান আপনি দেখতে পাবেন সেখানে অনেক ফ্রিল্যান্সার তাদের সার্ভিস ডিজাইন করে রেখেছেন এবং আপনি সেখান থেকে টপ রেটেড সেলার দের কে খুঁজে বের করুন। আপনি চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য সাব ক্যাটেগরিও দেখতে পারেন। নিচের স্ক্রিনশটে দেখে আসা যাক

টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার রা কিভাবে প্রোফাইল তৈরি করেছে, কি কি সার্ভিস কত টাকায় সম্পন্ন করেন ইত্যাদি বিষয়গুলো একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। একটি খাতায় কিংবা মাইক্রোসফট এক্সেলে কাজের তালিকা এবং মূল্য এগুলো টুকে রাখুন। এবার আপনি অন্যান্য সেলার যারা আছেন (লেভেল ১ এবং লেভেল ২ সেলার) তাদের প্রোফাইল-ও ঘুরে আসুন। নিচের স্ক্রিনশট দেখলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়ে যাবেঃ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের তৃতীয় ধাপঃ কাজের তালিকা এবং মূল্য জানা

উপড়ের বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে রিসার্চ করে এবার একটি চুড়ান্ত তালিক প্রস্তুত করুন যেটি দেখতে নিচের মত হবে পারেঃ

১. ফেসবুক পিক্সেল সেট করা

ফেসবুক পিক্সেল সেট করা খুবই সহজ একটি কাজ। ফেসবুক পিক্সেল কিভাবে সেট করতে হয় সে বিষয়ে আমাদের একটি আর্টিকেল রয়েছে এই লিঙ্কেঃ ফেসবুক মার্কেটিং এ পিক্সেল সেট করা । এখানে একটি বিষয় না বললেই নয় আর সেটি হল আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা জরুরি এবং আপনি মাত্র ১ হাজার টাকা খরচ করলেই পেতে পারেন ডোমেইন হোস্টিং। কিন্তু কিভাবে?

  • আপনার নিজের প্র্যাকটিসের জন্য Doman.xyz এই ধরণের একটি ডোমেইন নেইম পছন্দ করতে পারেন যেটি কিনা মাত্র ১ ডলারেই কেনা সম্ভব
  • আপনার পছন্দসই বাংলাদেশের কোন হোস্টিং কোম্পানীর কাছ থেকে হোস্টিং কিনতে নিতে পারেন।
  • এবার আপনার ওয়েবসাইটে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দিয়ে নিন যেটি খুব সহজেই আপনি ইউটিউবের কোন ভিডিও দেখে করতে পারেন।
  • আর ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার

ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার নিয়ে ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও রয়েছে আমাদের যেটি দেখতে পারেন নিচের লিঙ্কে গিয়ে

ব্যাস, এবার আপনি নিজেই প্র্যাকটিস করতে পারবেন এবং নিজেই এই সার্ভিস টি খুব চমৎকারভাবে দিতে পারবেন।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের আরো একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে যেটি পড়লে আপনার ফেসবুক মার্কেটিং এর এ্যাডভান্সড স্ট্র্যাটেজি নিয়ে জানতে পারবেন। আর্টিকেল টি পড়তে এই লিঙ্কে যেতে পারেনঃ ফেসবুকে এভারগ্রীন ও LeakProof ক্যাম্পেইন সেট করার পদ্ধতি

বিনামূল্যে জয়েন করুন

বাংলা ভাষার সবথেকে বড় ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং কমিউনিটিতে

জয়েন করতে চাই
Article Continues

এবার এই পিক্সেল সেটাপের অনেক এ্যাডভান্সড লেভেল রয়েছে যেমন বিভিন্ন কাস্টম ইভেন্ট তৈরি করা এবং কাস্টম কনভার্সন সেট করা। ফেসবুক পিক্সেলের একটি কাস্টম ইভেন্ট স্ক্রল ট্র্যাকিং নিয়ে রয়েছে আমাদের একটি আর্টিকেল যেটি পাওয়া যাবে এই লিঙ্ক থেকেঃ ফেসবুক পিক্সেলে স্ক্রল ইভেন্ট ট্র্যাকিং আর চাইলে আপনি আপনার সার্ভিসের সাথে আরো একটি সার্ভিস দিতে পারেন সেটি হল ফেসবুক কনভার্সন ক্যাম্পেইন সেট করা।

সুতরাং আপনি যদি পিক্সেল সেট করা, কাস্টম ইভেন্ট তৈরি করা কিংবা কনভার্সন ক্যাম্পেইন এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে আপনার ওয়েবসাইটে সেট করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইটেও কিন্তু একইভাবে সেট করতে পারবেন। ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কিভাবে আপনি কনভার্সন ক্যাম্পেইন সেট করবেন সে বিষয়ে আমাদের আরো একটি আর্টিকেল রয়েছে যেটি পাওয়া যাবে এই লিঙ্ক থেকেঃ ফেসবুকে Conversion ক্যাম্পেইন সেট করার পদ্ধতি

এবার আপনি উপরের বিষয়গুলোতে দক্ষ হয়ে গেলে আপনি আপনার সার্ভিস ডিজাইন করতে পারেন এভাবে

  • বেসিক প্যাকেজ – গুগল ট্যাগ ম্যানেজার ব্যবহার করে ফেসবুক পিক্সেল সেট করা – প্রাইস – ১০ ডলার
  • স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ – স্ক্রল ট্র্যাকিং এবং অন্যান্য ছোটখাট কিছু ট্র্যাকিং – প্রাইস – ২০ ডলার
  • প্রিমিয়াম প্যাকেজ – ফেসবুকে কনভার্সন ক্যাম্পেইন সেট করা – প্রাইস – ৩০ ডলার

ব্যাস, হয়ে গেল। আর হ্যাঁ উপরের বিষয়টি কোন ট্যাবলেট নয় যে আপনি ১ দিনেই করে ফেললেন। ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে প্লান তৈরি করুন, দেখবেন আপনি পেরে যাবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে যে আমি ২০০৭ সালে যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি তখন আমার একটি ইন্টারনেট কানেকশন পর্যন্ত ছিলনা, আমি ধার করা মডেম দিয়েও কিন্তু কাজ চালিয়েছি। নিজের উপড় বিশ্বাস রাখুন, দেখবেন আপনিও পেরে যাবেন। তবে সফলতার কোন শর্টকাট মেথড নেই, সফলতা একটি জার্নি।

Free Training

on Strategic & Data Driven Facebook Marketing

Enroll Now for FREE
Article Continues

২. গুগল এ্যানালিটিক্স এ যে সমস্ত সার্ভিস দেয়া যায়

গুগল এ্যানালিটিক্স এর উপড় অনেক কাজ রয়েছে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে যেগুলো করা খুবই সহজ। আপনার যখন ওয়েবসাইট হয়ে যাবে আর যখন আপনি ফেসবুক পিক্সেল ভালোভাবে সেট করতে পারবেন তখন দেখবেন আপনি খুব সহজেই গুগল এ্যানালিটিক্স এর ইকোসিস্টেম সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাবেন। গুগল এ্যানালিটিক্স ক্যাটেগরিতে আপনাকে নিচের বিষয়গুলোতে দক্ষ হতে হবে যাতে করে আপনি আরো ভালো আয় করতে পারেনঃ

  • গুগল ট্যাগ ম্যানেজার ব্যবহার করে গুগল এ্যানালিটিক্স সেট করতে পারা
  • গুগল এ্যানালিটিক্সে গোল তৈরি করা (খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আমাদের একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হবে)
  • গুগল এ্যানালিটিক্সের সাহায্যে এনহান্সড ই-কমার্স সেট করা

বিশ্বব্যাপী ই-কমার্সের অগ্রসরতার কারণে এই ধরণের কাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এনহান্সড ই-কমার্স সেট আপ করতে পারা তাই এখন সময়ের দাবি। এনহান্সড ই-কমার্স ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ই-কমার্স সাইটের প্রডাক্ট, ক্যাটেগরি সহ আরো অনেক ধরণের রিপোর্ট পাওয়া যায় যেখান থেকে অনেক ধরণের ব্যবসায়ীক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। এনহান্সড ই-কমার্স নিয়ে একটি স্ক্রিনশট নিচে দেয়া হলঃ

এবার আসা যাক গুগল এ্যানালিটিক্স নিয়ে আপনি কি কি ধরণের সার্ভিস ডিজাইন করতে পারেনঃ

  • বেসিক প্যাকেজঃ গুগল ট্যাগ ম্যানেজার দিয়ে গুগল এ্যানালিটিক্স সেট করা – প্রাইস – ১০ ডলার
  • স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজঃ ট্যাগ ম্যানেজার দিয়ে গুগল এ্যানালিটিক্স এর ৩-৪ টি কাস্টম ইভেন্ট সেট করা – পাইস – ২০ ডলার
  • প্রিমিয়াম প্যাকেজঃ ট্যাগ ম্যানেজার দিয়ে এনহান্সড ই-কমার্স ট্র্যাকিং – প্রাইস – ৫০ ডলার

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের চতুর্থ ধাপঃ কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা

ইতিমধ্যে আপনারা বুঝে গিয়েছেন যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার কিছু নেই বরং আপনাকে নির্দিষ্ট স্কিল ধরে ধরে এগোতে হবে। ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাটেগরিতে ভালোভাবে কাজ করতে গেলে আপনি নিচের বিষয়গুলোতে দক্ষ হতে পারেনঃ

  • ফেসবুক পিক্সেল
  • গুগল ট্যাগ ম্যানেজার
  • গুগল এ্যানালিটিক্স
  • গুগল ডেটা Studio
  • গুগল অপটিমাইজ
  • মাইক্রোসফট এক্সেল
  • গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস

উপরের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তর গবেষণা করুন, দেখবেন আপনি আপনার ক্যারিয়ার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পেরেছেন।

উপরের বিষয়গুলোতে দক্ষ হলে আপনি শুধু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নয় বাংলাদেশের মার্কেটপ্লেসেও অনেক কাজ করতে পারবেন কারণ বাংলাদেশে এই সেক্টরে অনেক দক্ষ লোকের প্রয়োজন কিন্তু দক্ষ লোকের যথেষ্ট অভাব।

Strategic & Data Driven

Digital Marketing Training @2999 BDT

Save 70% Today!
Article Continues

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের পঞ্চম ধাপঃ নিজের জন্য ভালো প্রোফাইল বানানো

এক্ষেত্রে আমি দু’ধরণের পরিকল্পনার কথা আপনাদের কে বলব, আর সেগুলো হলঃ

  • স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাঃ
    • স্বল্প মেয়াদে যেহেতু আপনি ফাইভার কিংবা আপওয়ার্ক এর মত কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন সেহেতু মার্কেটপ্লেসে একটি সুন্দর প্রোফাইল তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
    • একটি ভালো মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল তৈরি করার আগে অন্যান্য সফল ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল কিভাবে তৈরি করেছে সেটি দেখে আসুন
    • আপনি দেখবেন যারা টপ রেটেড সেলার তারা তাদের নিজের ছবিকে ব্র্যান্ডিং করে তাদের সার্ভিস এর (ফাইভারে যেটাকে গিগ বলা হয়) ব্যানার ডিজাইন করে
    • আপনি সবকিছু একবারে হতে যাবেন না, যেমন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং ভালো পারলে আপনার পরিচিত যিনি ভালো ডিজাইন পারেন তাকে দিয়ে একটি সুন্দর সার্ভিস ব্যানার তৈরি করিয়ে নিন। আবার সবাই ইংরেজিতে দক্ষও না তাই আপনার পরিচিত যিনি কিনা ইংরেজিতে দক্ষ তাকে দিয়ে আপনি আপনার প্রোফাইল টি লিখিয়ে নিন।
  • দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাঃ
    • দীর্ঘ ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে একটি কথা না বললেই নয় আর সেটি হল মার্কেটপ্লেসে কাজ করা মানে হল আপনাকে তার টার্মস এবং কন্ডিশন অনুযায়ী কাজ করতে হবে, প্রোফাইল বানাতে হবে। এমনকি আপনি টপ রেটেড হয়ে গেলেন কিন্তু কোন কারণে আপনার প্রোফাইল টি তারা ব্যান করে দিল। আর এজন্যই চাই টেকসই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। নিচের কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হলঃ
      • নিজের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন।
      • কিছু চমৎকার কন্টেন্ট লিখা শুরু করেন, ইংরেজিতে হতে হবে কারণ দীর্ঘমেয়াদে বিদেশের ক্লায়েন্ট দের সাথে কাজ করতে গেলে এর কোন বিকল্প নেই। বলতে পারেন তাহলে আমরা কেন বাংলায় লিখছি? আমরা ইংরেজিতেও আমাদের সব আর্টিকেল ট্র্যন্সলেট করছি কারণ আমরা খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানী হিসেবে দাড়াতে চাই।
      • ভালো মেন্টরের সহযোগিতা নিন যিনি কিনা আপনাকে টেকসই ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিবেন।

সবশেষে একটি কথা না বললেই নয় আর সেটি হল আপনাকে লেগে থাকতে হবে। সত্যি বলতে উপরে আমি যে দক্ষতাগুলোর কথা বললাম সেগুলো অর্জন করলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসেও সফল হবেন আবার দেশের বাজারেও আপনি কর্পোরেটে ভালো চাকরি করতে পারবেন। সবসময় মনে রাখবেন ভালো কোম্পানী করার আগে যদি আপনি কিছুদিন কর্পোরেটে কাজ করেন তাহলেই আপনি একদিন সফল ফ্রিল্যান্সার থেকে সফল ব্যবসায়ী-ও হতে পারবেন।

আর সফল ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবেঃ

  • আপনাকে সার্ভিস কিংবা প্রোডাক্টের ডিজাইন কিভাবে করতে হয় তা জানতে হবে
  • আপনাকে সঠিক জনবল নিয়োগ করতে হবে
  • আপনার সার্ভিস/প্রোডাক্টের প্রসেস/পদ্ধতি তৈরি করতে হবে
  • সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে হবে
  • আপনার সার্ভিস/প্রোডাক্টের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে

ফ্রিল্যান্সার থেকে একদিন সফল উদ্যোক্তা হওয়াটাই একজন সত্যিকারের সফল ফ্রিল্যান্সারের গল্প হওয়া উচিত। যেহেতু উদ্যোক্তাই হতে হবে তাহলে নিচের ভিডিও টি চাইলে দেখতে পারেন যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবসায়ের মডেল সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পাবেন।

বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসা এবং তাদের বিজনেস মডেল

লেখক পরিচিতিঃ

এই ব্লগ পোস্টটি লিখেছেন টি৩ কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি । কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক এর ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হিসেবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে অর্জন করেন বেসিস আউটসোর্সিং এ্যাওয়ার্ড। ইল্যান্স-ওডেস্ক (বর্তমান আপওয়ার্ক) এ্যানুয়াল ইম্প্যাক্ট রিপোর্টে উঠে এসেছে তার সফলতার গল্প। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মোঃ নাজমুল হোসেন

Popular Blog

1 comment on “ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা এবং করণীয়

  • ধন্যবাদ, এতো তথ্যবহুল আর্টিকেল এর জন্য। সাহসও পেলাম। তাই ফাইভার একটা আইডি ওপেন করে নিলাম।

Leave a Comments

0
0 item
My Cart
Empty Cart