Call Now

ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার

এই পোস্টটি কাদের জন্য উপযোগী?

  • মার্কেটিং/ব্র্যান্ড পেশাজীবী
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
  • অনলাইন ফ্রিল্যান্সার
  • ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এ আগ্রহী
  • বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক
  • মার্কেটিং এজেন্সির পরিচালক
  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা
  • বিভিন্ন পেশাজীবী যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লইয়ার ইত্যাদি

যা যা শেখা যাবে এই ব্লগ থেকে

  • ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে
  • ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার একটি সঠিক, দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই পরিকল্পনা কিভাবে করা যাবে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে
  • কিছু রিসোর্স পাওয়া যেতে পারে
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এর যে বিষয়গুলো আমাকে বিব্রত করে।

আজ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে যে পেশা নিয়ে কাজ করছি সেই পেশা নিয়ে নতুন করে লিখতে চাচ্ছি সম্পূর্ন নিজের দর্শন এবং অভিজ্ঞতা থেকে। আমার বাংলা বানানে অনেক ভুল থাকতে পারে – যেটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আজ থেকে প্রায় ৪ বছর আগে দৈনিক ইনকিলাবে “জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং, সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মক্ষেত্র” এই শিরোনামে আমার একটি ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়েছিল এবং মজার বিষয় হল ঐ দিনের সর্বাধিক পঠিত এর তালিকায় এটি ছিল ৩ নম্বরে।

সুতরাং, এই উপাত্ত থেকে আমি অন্তত এটা বুঝেছি যে এই টার্মটি আমাদের দেশের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় একটি টার্ম যার কাটতি অনেক বেশি। কাটতি শব্দটা একটু মজা করেই ব্যবহার করলাম। আমার ধারণা আমাদের দেশের মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে আবেগী মানুষ যার কারণেই হয়ত এদেশে এখনো রাস্তার ধারে কিংবা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কোন রকম গুণ না থাকার পরেও বিভিন্ন ঔষধ কিংবা অন্যান্য জিনিস দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কিংবা ৩০০ টাকার লাইট ১০০ টাকা বললেও মানুষ এটাই বিশ্বাস করছে যে এটা আসলেই ৩০০ টাকার লাইট। যাই হোক এ বিষয় নিয়ে না হয় অন্য একদিন আলোচনা করব।

একটি বিষয় আমি কখনোই বলতে চাইনা যে ডিজিটাল মার্কেটিং ই আগামী দিনে এদেশে রাজত্ব করবে যেখানে এখনো দেশের শিক্ষিতের হার সরকারি হিসেবে ৭৫ শতাংশের মত (যদিও আমার ধারণা এটি ৭০ শতাংশের নিচে) তবে আমি এটা বলতে চাই এদেশে প্রথাগত মার্কেটিং এর সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং কে সমন্বয় করলেই সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া সম্ভব । তবে এটা সত্য যে উন্নত দেশ যেমন আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা যাদের কে আমরা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি হিসেবে চিনি সেখানে আসলেই ডিজিটাল মার্কেটিং রাজত্ব করছে। হ্যাঁ একদিন ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেলটি এদেশে আরো জনপ্রিয় হবে এবং একদিন এদেশের সকল মানুষ (আমার ধারণা যা কিনা শিক্ষিতের হার বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে) কোন না কোন স্মার্ট ডিভাইস ব্যাবহার করবে। চলুন এদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুযোগ নিয়ে একটি ইনফোগ্রাফ দেখে আসি।

উপড়ের ইনফোগ্রাফি নিয়ে কিছুটা সময় দিন এবং এখান থেকে আপনি কি সিদ্দান্তে উপনীত হতে পেরেছেন তা লিখে ফেলুন। এটি খুবই সাধারণ একটি ইনফোগ্রাফি এবং উপড়ের ইনফোগ্রাফি থেকে আপনার ভাবনাগুলো চাইলে আপনি কমেন্টে জানাতে পারেন।

ও আর হ্যাঁ সেদিনই আমরা ধরে নিতে পারব যে আমাদের দেশে সত্যিকারের ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্র্যাকটিস হচ্ছে যেদিন আমরা বুঝতে পারব যে – ডিজিটাল মার্কেটিং শুধু ফেসবুক বুস্টিং এর মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আর এই বোঝাপড়াটা শুধু প্রাকটিশনার লেভেলেই হবেনা বরং ক্লায়েন্ট সাইডেও এই বোঝাপড়াটা থাকতে হবে।

Free Training

on Strategic & Data Driven Facebook Marketing

Enroll Now for FREE
Article Continues

তবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন এজেন্সি যেমন আপওয়ার্ক এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুবাদে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে দেখেছি যে আমাদের দেশে অনেকে শুধু ফেসবুক ইউজার বলেই ইন্টারনেট ইউজার। ধন্যবাদ মার্ক জুকারবার্গ ও ফেসবুক – অন্তত আমাদের দেশে ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশনে অনেক অবদান রেখেছেন ।

আমাদের দেশে এখনো আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারিনি। আমি যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে বেশি কাজ করেছি বিশেষ করে আপওয়ার্কে কাজ করেছি তখন দেখেছি যে আমেরিকাতে একজন লইয়ার, একজন ডাক্তার, ডায়েটিশিয়ান কিংবা একজন কোচ ডিজিটাল প্লাটফর্মে কতখানি এ্যাকটিভ। সবচেয়ে মজা পেয়েছি যখন দেখেছি (চাইলে একটু হেসেও নিতে পারেন) একজন লকস্মিথ মানে হল তালা চাবি ঠিক করার কারিগরও ডিজিটালি অনেক এ্যাকটিভ। এমনকি আমি নিজেও দেখে খুব মজা পেয়েছি এবং মনে মনে হাসতে হয়েছে। এখন দেশ এগিয়েছে আমাদের তালার মেকাররাও অনেক শিক্ষিত হয়েছে আর তাইত যখন আমি এই পোস্টটি লিখছি কৌতূহলবশত আমি LockSmith লিখে সার্চ করার সাথে সাথে আমাকে একটা রেজাল্ট দেখিয়ে দিল – আমি কিন্তু অবাক হইনি কারণ আমি জানতাম এদেশে এটা হবে।

ডিজিটাল মার্কেটের ইকোসিস্টেম যখন আরো স্ট্যাবল হবে ও ডিজিটাল চ্যানেলের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে, ইন্টারনেটে খুঁজে বের করার অভ্যাস তৈরি হবে আর যখন এদেশের মানুষ সময়কে আরো বেশি গুরুত্ব দিবে তখনই ডিজিটাল মার্কেটিং এদেশে তার স্বর্ণযুগে পৌঁছাবে। তবে সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং পেশার মজাদার দিকগুলোঃ

  • এটি একটি ডেটা নির্ভর বিপনন ব্যবস্থা যাতে কিনা ডেটা নিয়ে অনেক মজার মজার এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং যারা তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন তাদের উচিত এ পেশায় মনোনিবেশ করা ।
  • যারা কিনা মানুষের সাইকোলজি নিয়ে গবেষণা করতে পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রে এ পেশায় ভালো করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
  • যারা বিভিন্ন ফ্যাক্ট এবং ফিগার পছন্দ করেন তাদের জন্যও এটি একটি চমৎকার ক্যারিয়ার।
  • এমন একটি পেশা যেখানে চাইলে ধরুন যেমন আমার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে, চাইলে আমি সেখানে বসেও আমেরিকার কোন উন্নত শহর যেমন নিইউয়র্কের একজন ডাক্তারের ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা প্রদান করতে পারি। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থী হয়েও বিজ্ঞানী না হয়ে একজন ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটার হবার পেছনে এটিও একটি কারণ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। (একদা আমাকে একজন তাই মজা করে বলেছিলেন – আপনার হবার কথা ছিল বিজ্ঞানী আর আপনি কিনা হলেন মুড়িবিক্রেতা)

তাহলে ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

আমি ডিজিটাল মার্কেটিং কে অনেকটা উভমুখী বিক্রিয়ার সাথে তুলনা করে থাকি যেখানে কিনা কাস্টমারও আপনাকে আপনার কমিউনিকেশনের ফিডব্যাক দিবে। বিষয়টা কিন্তু খুবই দারুণ। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন ধরুণ আমাদের কোন একটি ক্লায়েন্ট এর জন্য আমরা ফেসবুকে একটি কাম্পেইন করেছিলাম। সেই ক্যাম্পেইনের কোন একটি সেটে আমরা নিচের চারটি ইলাস্ট্রেশন ব্যাবহার করেছিলাম।

এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় যে কোন ইলাস্ট্রেশনটি সবচেয়ে সুপার ডুপার পারফর্ম করেছে? হ্যাঁ অনেকের মধ্যেই এক ধরণের ইলিউশন কাজ করবে যে “মনে হয় এই নির্দিষ্ট এ্যাড টি সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করবে”। আর এই ইলিউশন দূর করতে পারে একমাত্র ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যাবস্থা। সত্যিকার অর্থে যেটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে সেটি অন্যের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে। এবার চলুন ডেটাতে ফিরে যাওয়া যাক। ফেসবুক মার্কেটিং এর পারফর্মেন্স মনিটরিং এর অন্যতম একটি Metric হল CTR যার পূর্ণরূপ হল – Click Through Rate. আপাতত এই বিষয়ে ডিটেইল আলোচনায় না গিয়ে এটুকু জেনে রাখেন যে, কোন এ্যাডের CTR বেশি হওয়া মানে ঐ নির্দিষ্ট এ্যাডের পারফর্মেন্স ভালো। এবার নিচের স্ক্রিনশটে দেখুন আর ঘটনাটি পর্যবেক্ষন করুনঃ

এবার বোঝা যাচ্ছে যে কন্টেন্ট এর পাশাপাশি ডেটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। আবার এটা ধরে নেয়ার কোন অবকাশ নেই যে শুধুমাত্র CTR ই একটি ক্যাম্পেইনের সবকিছু!!!

আমরা অনেক ক্ষেত্রে বলে থাকি যে কন্টেন্ট হল রাজা (Content is King)। কথাটা সত্য কিন্তু এটাও সত্য যে ডেটা ছাড়া আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন যে আসলেই সেই কন্টেন্টটি কিং হয়েছে কিনা?

তাই বলে আপনি এটা বলেই দয়া করে প্রমাণ করতে যাবেন না যে অমুক ভিডিও তে ভিউ ১০ লাখ। যদি এই ভিডিও তে ভিউ কত এরকম প্রশ্ন করা হয় তবে ভেবে নেয়া যেতে পারে ডেটা নিয়ে আরো স্টাডি করতে হবে। বরং প্রশ্নটা এভাবে সাজানো যেতে পারেঃ

  • কত শতাংশ মানুষ এই ভিডিওর ৫০% দেখেছে
  • কত শতাংশ মানুষ এই ভিডিওর ৩ সেকেন্ড দেখেই বিদায় নিয়েছে
  • কত শতাংশ মানুষ পুরো ভিডিও দেখেছে

আর এই ধরণের কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করার পরেই আপনি বলতে পারবেন যে ভিডিও টি আসলেই সঠিক কমিউনিকেশন করতে পেরেছে কিনা।

সুতরাং গড়পড়তায় ভিডিও ভিউ কত এই কাউন্টিং আসলেই কতখানি গুরুত্ব বহন করে তা আমার মাথায় আসেনা!!!!! যদিও আমি দেখেছি এদেশের অনেক কোম্পানির মালিক কিংবা অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড প্রফেশনালরাও এটা শুনেই পুলকিত হয় যে তার অমুক নির্দিষ্ট প্রমোশনাল ভিডিও তে ভিউ ১০ লাখ। জি ভাইয়া পুলকিত হতে পারবেন যদি ডেটা সঠিকভাবে গ্রহণ করেন।

যেমন আপনি যখন এই আর্টিকেলটি পড়ছেন তখন এই পেইজ থেকে আমি নিচের তথ্যগুলো আমার গুগল এ্যানালিটিক্সে নিয়ে যাচ্ছিঃ

  • পেইজে কত সময় ব্যায় করছেন আপনি?
  • কোন কোন পেইজে ভিজিট করছেন?
  • এই আর্টিকেল পড়ার জন্য আপনি কোন উৎস (ফেসবুক/ইমেইল/অন্য কোন উৎস) থেকে আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন?
  • কত শতাংশ কন্টেন্ট আপনি স্ক্রলিং করেছেন?
  • এই পেইজ থেকে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট এর অন্য কোন পেইজে যাচ্ছেন কিংবা অন্য কোন পেইজ থেকে এই পেইজে অবতরণ করছেন।
  • আরো অনেক মজার মজার তথ্য (সব কথা বললে ত আপনি আর আমার ওয়েবসাইটে ভুলেও ভিজিট করবেন না – যদিও সত্যিকার অর্থে আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হয় এরকম কোন তথ্যই আমরা সংরক্ষণ করছি না বরং আমাদের মার্কেটিং এর জন্য উপকার হয় এরকম তথ্য আমরা সংরক্ষণ করছি। আর এ কারণেই আপনি যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন তখনই আপনাকে নোটিফাই করেছি যে আমরা কুকি সংরক্ষণ করি – এবং আপনি আপনার অবচেতন মনেই সেটি ওকে করে দিয়েছেন)

আর এ সব তথ্য সংরক্ষণ করে আমি যখন আমার নির্দিষ্ট রিপোর্টে সাজাবো তখন রিপোর্ট আমাকে অসাধারণ কিছু সাজেশন দিবে যেটি কিনা আমার পরবর্তী স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে সাহায্য করবে। অতি সম্প্রতি আমার লেখা অন্য একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে – Google Tag Manager ব্যাবহার করে Facebook Scroll Event ট্র্যাকিং করা যেটি পড়লে হয়ত আপনার এ বিষয়ে কিছুটা বাস্তবসস্মত ধারণা জন্মাবে।

Strategic & Data Driven

Digital Marketing Training @2999 BDT

Save 70% Today!
Article Continues

উপড়ে যে উদাহরণ টি দিলাম সেটি কিন্তু ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি নগন্য অংশ। ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এ অনেক গুলো বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয় যেমন – আপনার ব্র্যান্ড এর সাথে টার্গেট কাস্টমারের সম্পর্ক কেমন, আপনার প্লাটফর্মে আপনার টার্গেট কাস্টমারের বিহেভিওর কেমন ( ভাই এই বিহেভিওর সেই বিহেভিওর না- আপনার কাস্টমার আপনার ডিজিটাল প্লাটফর্মে ত কিল বা ঘুষি কোনটাই দিতে পারবে না), টার্গেট কাস্টমার আপনার পেইজ কিংবা ওয়েবসাইট কিংবা এ্যাপে কিভাবে ইন্টার‍্যাক্ট করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে আমি নিজেও প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখি কারণ একজন সফল ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটার হবার প্রথম শর্ত হল প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু শেখা।

প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক কিছুই আমাদের অগোচরেই এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যে আমরা আসলে বুঝতেই পারছিনা আদতে কি হচ্ছে। একটি কথা না বললেই নয় আর সেটি হল আমাদের দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ এটা বিশ্বাস করে যে ফেসবুকে বুস্টিং আর রিচ করলেই আমার প্রডাক্ট বিক্রি হয়ে যাবে যেটি কিনা পুরোপুরি ভুল। আমি কোনভাবেই এদেশের মানুষকে ছোট করে দেখতে চাইনা বরং আমি এটা বলতে চাই যে আমরা কোন বিষয়ে অল্প একটু জেনে ফেললেই ধরে নেই যে আমরা এ বিষয়ে মাস্টার হয়ে গেছি। আমার ধারণা এটি এক ধরণের সংকীর্ণতা। পাশাপাশি আমি এটাও বলতে চাই যে আমাদের দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং এর শতকরা ৬০-৭৫ ভাগ টাকা অপচয় হয় শুধুমাত্র আমাদের অল্পবিদ্যার কারণে। যেটি শুধু ব্র্যান্ডের জন্যই ক্ষতিকর নয় বরং দেশের জন্যও ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাহিদাঃ

এবার আসা যাক বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায়। একজন সত্যিকারের ডিজিটাল মার্কেটারের ক্যারিয়ার কখনো কোন নির্দিষ্ট স্থান/দেশ কেন্দ্রিক হয়না। তিনি পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসেই সারা দুনিয়ার সাথে কাজ করতে পারেন। যাইহোক এত গভীর আলোচনা অন্য একদিন অন্য কোন সময়ে করা যেতে পারে। চলুন দেখে আসি একজন ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য এ দেশে কোন কোন সেক্টর অপেক্ষা করছেঃ

মার্কেটিং এজেন্সিঃ মার্কেটিং এজেন্সি মূলত এরকম সংস্থা যারা কিনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটিং কমিউনিকেশন এর যাবতীয় কাজগুলো করে থাকে। বলা চলে এখন বাংলাদেশের প্রায় সব মার্কেটিং এ্যাজেন্সিতেই ডিজিটাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। সবথেকে দুঃখজনক ব্যাপার হল এজেন্সিগুলোও সঠিক ডিজিটাল মার্কেটারদের খুঁজে পাচ্ছেনা। বাংলাদেশের বেশিরভাগ এজেন্সিগুলো ডিজিটাল সেক্টরে বলতে গেলে নতুন এবং আরেকটি বাপার হল এদেশের বেশিরভাগ ক্লায়েন্টও পরিপক্ক নয়। যার কারণে ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ক্লায়েন্টরাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুকের রিচ কিংবা লাইক কেই কাউন্ট করে। তবে এটাও ঠিক আমাদের দেশের মানুষের সাইকোলজিও অনেকটা ফেসবুক লাইককেন্দ্রিক – যেই পেইজে লাইক বেশি সেই পেইজের জনপ্রিয়তাও আমাদের কাছে বেশি এবং সেই পেইজের প্রতি আমাদের আস্থাও বেশি। হ্যাঁ মেনে নিচ্ছি ফেইসবুক লাইক ডেফিনিটলি একটি মূল্যবান KPI (Key Performance Indicator) কিন্তু এটিই সবকিছু নয়। ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই এফএমসিজির (বিশেষ করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোর) স্ট্র্যাটেজি গুলো আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

বিভিন্ন কোম্পানিঃ ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির ফলে একটি ভালো দিক আমি লক্ষ করেছি সেটি হল দেশের কোম্পানীগুলোর কর্ণধাররা চান তাদের কোম্পানির ডিজিটাল প্রেজেন্স থাক। তবে একটি সমস্যা রয়েই গেছে আর সেটি হল দেশের বিভিন্ন কোম্পানির কর্ণধারদের মধ্যে অনেকেই সত্যিকারের ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর KPI কিংবা এর ক্ষমতা সঠিকভাবে না জানার কারণে তারাও অনেক সময় কনফিউজড থাকেন যে আসলে কি করতে হবে। যাই হোক ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ। তবে অবশ্যই এই সুযোগটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে কোনভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার করা ঠিক হবেনা।

ইকমার্সঃ ইকমার্স বাংলাদেশে উদীয়মান শিল্প। এই শিল্পে এখনো রয়েছে প্রচুর দক্ষ মার্কেটার এর অভাব। বলতে গেলে সবথেকে বেশি ড্যাটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটার দরকার হবে এই সেক্টরে। অথচ এই সেক্টরে আমাদের দক্ষ জনবলের যথেষ্ট অভাব। আমার দৃষ্টিতে হাতে গোনা দুই একজন ছাড়া এদেশের ইকমার্স এর জন্য যে ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটার প্রয়োজন সেটি একেবারেই নেই।

কন্সালটিংঃ এই পেশাটি আমাদের দেশে এখনো আমি দেখিনি। যদিও এটি অনেক চমৎকার একটি পেশা। আপনি দেখবেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং কন্সাল্টেন্ট রা সম্মানের সাথে কত টাকা আয় করছে। দয়া করে ভাববেন না যে তারা ক্লায়েন্ট এর কাছে গিয়ে গিয়ে পিচ করছে। নো। তারা তাদের ইনসাইট তাদের ব্লগে দিচ্ছে, তাদের বই প্রকাশ করছে, তাদের ট্রেনিং বিক্রি করছে। পাশাপাশি ঘন্টাভিত্তিক (এমনও আছে যারা কিনা ঘন্টায় ৫০০-৭০০ ডলার কিংবা আরো বেশি চার্জও করছে) অথবা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ বিভিন্ন ক্লায়েন্ট কে অনলাইনেই করে দিচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিংঃ হ্যাঁ এটিও করা যেতে পারে। যেহেতু এদেশের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ এ পেশার সাথে জড়িত এবং আমি নিজেও একসময় ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সার ছিলাম সুতরাং এটা নিয়ে পরে একসময় কথা বলব। আমার বলতে ভালো লাগে যে আমি একসময় ফ্রিল্যান্সার ছিলাম বলেই আমার সুযোগ হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কাজ করার, তাদের কালচার সম্পর্কে জানার। শুধু তাই নয়, আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে দেশের সফটওয়ার মালিক সমিতির সংগঠন বেসিস আমাকে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছিল দেশসেরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এবং ২০১৪ সালে ইল্যান্স-ওডেস্ক এ্যানুয়াল ইম্প্যাক্ট রিপোর্টে প্রকাশ করেছিল আমার ফিচার।

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ আমি এটাকে বলি মানি মেকিং মেশিন। চাইলে করা যেতে পারে।

নিজের মত করে একটি ব্যাবসাঃ যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনি যখন অন্যের ব্যবসা দেখাশুনা করতে পারছেন সেহেতু আপনার নিজের ব্যবসাও আপনি গুছিয়ে নিতে পারবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। হতে পারে এটি একটি ক্ষুদ্র ব্যাবসা।

কি কি স্কিল ডেভেলপ করা যেতে পারে?

  • কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট
  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • এসইও
  • গুগল এ্যাডওয়ার্ডস
  • মেসেঞ্জার মার্কেটিং টুলস (চ্যাটবট)
  • গুগল ট্যাগ ম্যানেজার
  • গুগল এ্যানালিটিক্স
  • গুগলে ডেটা স্টূডিও
  • এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • এসকিউএল
  • এমএস এক্সেল
  • স্ট্র্যাটেজিক প্লানিং
বিনামূল্যে জয়েন করুন

বাংলা ভাষার সবথেকে বড় ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং কমিউনিটিতে

জয়েন করতে চাই
Article Continues

যে সেক্টর গুলো এখনো এদেশে খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি?

  • ডক্টর’স ডিজিটাল মার্কেটিংঃ আমার হিসেবে এদেশে এখন ১ লক্ষ+ ডাক্তার রয়েছেন। এদেশে এই সেক্টরটি এখনো জনপ্রিয় হয়নি। আমাদের দেশের ফিজিশিয়ানরা এখনো ডিজিটাল এর সাথে মানিয়ে নিতে পারেনি। অথচ আপনি উন্নত বিশ্বের ফিজিশিয়ানদের দিকে তাকালে দেখবেন তারা ডিজিটাল প্রেজেন্স এর দিক থেকে কত এগিয়ে। অধিকাংশ ডাক্তার এর ডিজিটাল প্রেজেন্স খুবই শক্তিশালী। তারা যেমন লেখাপড়া করে তেমনি তাদের ব্লগে প্রতিনিয়ত তাদের ইনসাইট গুলো লিখে রাখে। এতে যেমন ডাক্তার নিজের দক্ষতা প্রতিনিয়ত বাড়ায় একইভাবে তাদের পেশেন্ট রাও অনেক বিষয়ে আপডেট থাকে এমনকি তাদের শিক্ষার্থীরাও। আমার কাছে কখনোই মনে হয়নি এটি ফিজিশিয়ানদের অদক্ষতা বরং মনে হয়েছে আমাদের দেশে সঠিক ডিজিটাল মার্কেটারের অভাবের কারণে ফিজিশিয়ানদের মত একটি চমৎকার সেক্টর এখনো আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছে। আমাদের দেশেও একদিন এ বিষয়টি জনপ্রিয় হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
  • লইয়ার ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ডায়েটিশিয়ান
  • সাইকিয়াটিস্ট
  • বিভিন্ন স্পেশালাইজড পেশাজীবীর মার্কেটিং (যেমনঃ ইঞ্জিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা কৃষিবিদ ইত্যাদি)

আমাদের দেশের মানুষের সংকীর্ণতাঃ

  • অনেকেই ভাবেন যে আমি ত সব কিছু পারি তাহলে আমি কেন ভালো ভালো লেখকের বই কিংবা ভিডিও টিউটোরিয়াল কিংবা ট্রেনিং নিব? আমার ধারনা এ বিষয়টি সংকীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই না। এমনকি এদেশে অনেকে ট্রেনিং দেয়াকে ধান্দাবাজি হিসেবে গন্য করে। কেন ধান্দাবাজি হিসেবে গন্য করে সে বিষয়ে আমি এই পোস্টে আগেই বলে দিয়েছি।
  • আমরা কোন কিছু লিখতে অনেক ভয় পাই, যদি ভুল হয়ে যায় কিংবা লিখে কি হবে? আমার কাছে এটিও এক ধরণের সংকীর্ণতা মনে হয় কারণ আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে ছোটবেলায় আমরা পড়ার পাশাপাশি লিখতাম বলে এখনো আমাদের অনেক কবিতা কিংবা গল্প মনে আছে। আর সেজন্যই প্রত্যেক ডিজিটাল মার্কেটারের একটি নিজস্ব লেখার প্লাটফর্ম থাকা উচিত। এক্ষেত্রে একজন মেন্টর অতীব গুরুত্বপূর্ন।
  • একজন দক্ষ ডাক্তার যদি তার চেম্বারে রোগী দেখে ফি নিতে পারে তাহলে একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার কেন তার ডেস্কে বসে বিভিন্ন কোম্পানীর কন্সালটেন্সি দিয়ে ফি নিতে পারবে না? আমরা আসলে এ বিষয়ে ধারণাই করতে পারিনা।
  • আমাদের আরো একটি সংকীর্ণতা হল আমরা টেকনোলজিস্ট হতে চাই কিন্তু আমরা কাজ করি একজন টেকনিশিয়ানের মত। যেমন ধরুন আপনি সবেমাত্র শিখেছেন যে ফেসবুক পোস্টের বুস্ট বাটনে ক্লিক করলে আর কিছু ডলার খরচ করলে কিছু মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। আর তাতেই আপনি নিজেকে রীতিমত ডিজিটাল মার্কেটার ভাবতে শুরু করলেন। এ ধরণের ঘটনা আমার চোখে আমি অহরহ দেখেছি বলেই উদাহরণ টা টানলাম। আসলে কাউকে ছোট করা আমার উদ্দেশ্য নয়। উপড়ের যে ঘটনা সেটি যদি আপনার জীবনেও ঘটে থাকে তাহলে আপনি টেকশিয়ান হয়ে গেলেন, সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কি টেকনিশিয়ান হবেন নাকি টেকনোলজিস্ট। হ্যাঁ, ফেসবুক পোস্টের বুস্ট বাটন ব্যাবহার করলে ক্ষতি নেই তবে আপনাকে জানতে হবে এই বুস্ট বাটনের সীমাবদ্ধতার কথাও।

বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এর যে উদ্ভট বিষয়গুলো আমাকে বিব্রত করেঃ

  • আমার ধারণা বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে ডিজটাল মার্কেটিং ট্রেনিং এর প্রমোশনের জন্য CTA (Call to Action) বাটনে ক্লিক করার পর টার্গেট কাস্টমারকে গুগল ফর্মে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টা দেখে আমার শুধু হাসতেই ইচ্ছে করেনা মাঝে মাঝে কাঁদতেও ইচ্ছে হয়। কাঁদতে ইচ্ছে হয় কারণ আমি আগেই বলেছি আমাদের দেশের মানুষ হল পৃথিবীর সবথেকে আবেগী মানুষ যারা কিনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিবেক না দিয়ে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় আর পদে পদে প্রতারিত হয়।
  • এদেশে ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস জনপ্রিয় করার পেছেন “৮৫ টাকা ডলার রেটে বিজ্ঞাপন দিন” এ ধরণের সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। মাঝে মাঝে মনে হয় দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই।

N.B: আমি খুবই দুঃখিত এই বিষয়গুলো উত্থাপনের জন্য, কিন্তু একদিক থেকে আনন্দিত আর সেটি হল আপামর জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারছি।

আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়ার কিছু উদাহরণ টানা যেতে পারেঃ

আমাদের সবার এটা জানা যে আইটি সেক্টরে আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়া আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। দীর্ঘ দিন এই সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে আমি যে বিষয়গুলো লক্ষ করেছি সেটি হলঃ

  • তারা যথেষ্ট প্রফেশনাল। আমি জানি যে প্রফেশনাল শব্দটি খুবই অস্পষ্ট একটি শব্দ। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে চাইঃ যেমন ধরুন ইন্ডিয়ান অনেক ডিজিটাল মার্কেটার কে আমি দেখেছি যে তারা অত বেশি দক্ষ নয় কিন্তু তারা এটা জানে যে কিভাবে কম দক্ষতা নিয়েও মার্কেটে এমনভাবে কমিউনিকেশন করা যেন সবাই বুঝতে পারে যে সে দক্ষ। সেখানকার অনেক মার্কেটারই বিশ্বাস করে যে “EAT LESS, POOP MORE”। এছাড়াও তারা সার্ভিস কে কত সুন্দর করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যায় সেটা ভালোমত জানে।
  • তারা যেটাই শিখছে সেটাই লিখে প্রকাশ করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার ভিডিও তৈরি করে। মনে রাখতে কপি পেস্ট ভিডিও টিউটোরিয়াল সাময়িক সময়ের জন্য আপনার কিছু অডিয়েন্স তৈরি করবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনি এবং আপনার অডিয়েন্স দুপক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাই আগে লিখুন তারপর ভিডিও তৈরি করুন – তাতে সবারই উন্নতি হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কোন কিছু লেখা কিংবা ভিডিও প্রকাশ করার আগে ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রচুর গবেষণা করতে হবে এবং তারপর সেটা নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। এতে করে সৃজনশীলতা বাড়বে এবং আপনি এবং আপনার ক্লায়েন্ট/কলিগ/কানেক্টেড লোকজন দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।

একটি কথা আবারো বলতে চাই শুধু প্রতিদিন কন্টেন্ট বানালেই চলবে না, ডেটা নিয়েও গেইম প্লে করতে হবে। তাহলেই কন্টেন্ট আর ডেটা মিলেমিশে আরো বেশি শক্তিশালী আউটপুট দিবে। তখন ১+১= ৩ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

লেখক পরিচিতিঃ

এই ব্লগ পোস্টটি লিখেছেন টি৩ কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি । কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক এর ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হিসেবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে অর্জন করেন বেসিস আউটসোর্সিং এ্যাওয়ার্ড। ইল্যান্স-ওডেস্ক (বর্তমান আপওয়ার্ক) এ্যানুয়াল ইম্প্যাক্ট রিপোর্টে উঠে এসেছে তার সফলতার গল্প। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মোঃ নাজমুল হোসেন

Tags: , ,

Popular Blog

1 comment on “ ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার

Leave a Comments

0
0 item
My Cart
Empty Cart