Call Now

ফেসবুক মার্কেটিং এ সঠিকভাবে অডিয়েন্স নির্বাচনের পদ্ধতি

ফেসবুক অডিয়েন্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি সঠিক সে বিষয়ে আমি বিভিন্ন সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হই। ডিজিটাল মার্কেটিং এর একজন শিক্ষার্থী, মার্কেটার এবং স্পিকার হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি আমাকে ভাবায়। আমার ধারণা আপনি যখন এই পোস্টটি পড়ছেন ততক্ষণে আপনি জেনে গিয়েছেন যে ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অডিয়েন্স নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আসলেই তাই, আমার কাছেও মনে হয়েছে সঠিক অডিয়েন্স নির্বাচন করতে পারলে আপনি একটি ক্যাম্পেইনের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলেছেন। (যদিও কন্টেন্ট তৈরিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। )

এই পোস্টটি কাদের জন্য উপযোগী?

  • কোম্পানীর পরিচালক
  • ই-কমার্স পেশাজীবী
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির পরিচালক
  • মার্কেটিং/ব্র্যান্ড পেশাজীবী
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার
  • অনলাইন ফ্রিল্যান্সার
  • যারা ফেসবুক মার্কেটিং এ আগ্রহী

যা যা শেখা যাবে এই ব্লগ থেকে

  • ফেসবুকের তিন ধরণের অডিয়েন্স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে
  • কিভাবে ফেসবুকে তিন ধরণের অডিয়েন্স তৈরি করতে হয়
  • অডিয়েন্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত

পুরো আর্টিকলটি না পড়লে আপনি হয়ত অনেক বিষয়ে অবগত হবেন না এবং সেক্ষেত্রে আপনার অডিয়েন্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপকারের থেকে ক্ষতিও হতে পারে। তাই আমার অনুরোধ একটি দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে নিন এই আর্টিকেলটি পড়ার আগে :)।

ফেসবুক এ্যাড ম্যানেজার এর উপড়ের মেন্যুতে ক্লিক করলে আপনি নিচের স্ক্রিনটি দেখতে পাবেন।

ফেসবুক মার্কেটিং অডিয়েন্স কিভাবে এ্যাড ম্যানেজার থেকে সেট করা যায়

অডিয়েন্স বাটনে ক্লিক করলে আপনি নিচের স্ক্রিন দেখতে পাবেন (এ্যাড ম্যানেজার এর ভার্সন এর কারণে আপনার ভিউ কাছাকাছি হবে অথবা একটু ভিন্ন হতে পারে)

ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ৩ ধরণের অডিয়েন্স

 ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি তিন ধরণের অডিয়েন্স তৈরি করতে পারবেন। সেগুলো হল: 

  • Saved Audience (সেইভড অডিয়েন্স)
  • Custom Audience (কাস্টম অডিয়েন্স) এবং
  • Look-A-Like Audience (লুক এ লাইক অডিয়েন্স)

N.B:  সেইভড অডিয়েন্সের সাথে কাস্টম এবং লুক এ লাইক কিংবা আরো চমৎকার কম্বিনেশন করে অডিয়েন্স তৈরি করা সম্ভব।

Strategic & Data Driven

Digital Marketing Training @2999 BDT

Save 70% Today!
Article Continues

চলুন তাহলে সেইভড অডিয়েন্স নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক: 

ফেসবুক মার্কেটিং এ – Saved অডিয়েন্স

আপনার হয়ত মনে পড়ছে যে আপনি যখন ফেসবুক এ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন তখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফেসবুকে দিতে হয়েছিল এবং আপনি প্রতিনিয়তই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফেসবুকে দিয়ে যাচ্ছেন যেমন কোন রেস্তোরায় বসে আপনি কার সাথে কি খাচ্ছেন, কোথায় বসে কার সাথে গল্প করছেন আরো অনেক কিছু। আপনার অনেক ধরণের তথ্যই ফেসবুকের কাছে সংরক্ষিত আছে যেমন আপনি কোথায় বসবাস করছেন, আপনি কোন পেশায় আছেন, কোথায় পড়াশোনা করেছেন কিংবা করছেন, আপনি কি বিবাহিত নাকি অবিবাহিত, সম্প্রতি কোথায় ঘুরতে গিয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি কোন পেইজ এ লাইক দিচ্ছেন, কোন ধরণের পোস্ট পড়ছেন কিংবা শেয়ার করছেন কোন কমিউনিটিতে আপনি নিজেকে যুক্ত করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি তথ্য ফেসবুক সংরক্ষণ করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এ সব প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক, গুগল আপনার তথ্য কে খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে তাদের তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করছে।

চলুন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা যাক: 

  • আপনার কাছে কি কোন কাস্টমার ডাটাবেইজ যেমন ইমেইল এ্যাড্রেস কিংবা ফোন নম্বর আছে?
  • আপনি কি আপনার ওয়েবসাইটে ফেইসবুক পিক্সেল সেট করেছেন?

যদি উপরের প্রশ্ন দুটির উত্তর না হয়, সেক্ষেত্রে সেইভড অডিয়েন্স ই আপনার একমাত্র ভরসা। এক্ষেত্রে আপনি চোখ এবং কান বন্ধ (মজা করে বললাম আর কি 🙂 ) করে সেইভড অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন 🙂

N.B: মজা করলাম কারণ বিশ্ববিখ্যাত মার্কেটিং কমিউনিকেশন্স এজেন্সি ওগিল্ভি (যেটার নাম হয়ত আপনারা শুনে থাকবেন) এর ফাউন্ডার David Ogilvy বলেছেন বিজ্ঞাপনের লেখা সর্বদাই মজাদার হতে হবে। যেহেতু আমার এ লেখাটিও আমি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে লিখেছি তাই আপনাদের সাথে মজা করতে দোষ কোথায়?

আর উপরের প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় সেক্ষেত্রে আপনি কাস্টম এবং লুক এ লাইক অডিয়েন্স ব্যাবহার করতে পারেন।  

N.B: ফেসবুক পিক্সেল সেট আপ এবং কনফিগারেশনের ক্ষেত্রে আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই Google Tag Manager ব্যাবহার করে থাকি। এ বিষয়ে আমাদের অন্য একটি আর্টিকেল রয়েছে যেটি পাওয়া যাবে এই লিঙ্ক থেকে ফেসবুক মার্কেটিং এ পিক্সেল সেট করার পদ্ধতি যেখান থেকে আপনি গুগল ট্যাগ ম্যানেজার এবং ফেসবুক পিক্সেলের বেসিক ধারণা পাবেন । আর এই ওয়েবসাইটটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং আরো নতুন নতুন বিষয়ে জানতে পারবেন। যাইহোক, ঢোল পিটিয়ে কি লাভ, কাজে আসা যাক।

বিনামূল্যে জয়েন করুন

বাংলা ভাষার সবথেকে বড় ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং কমিউনিটিতে

জয়েন করতে চাই
Article Continues

সেইভড অডিয়েন্স তৈরি করা এবং কনফিগার করা

যখন আপনি সেইভড অডিয়েন্স এ ক্লিক করবেন তখন নিচের স্ক্রিন টি দেখা যাবে। যেহেতু স্ক্রিন টি বড় সেহেতু আমাকে দুই বার স্ক্রিন শট নিয়েছি এবং সে অনুযায়ী এখানে সংযোজন করেছি।

ফেসবুক মার্কেটিং এ সেইভড অডিয়েন্স নির্বাচন
Creating & Configuring Facebook Saved Audience - 02

চলুন উপরে প্রাপ্ত কিছু ফিল্ডের সাথে পরিচিত হইঃ

  • People Living in or Recently in this Location –যারা এই নির্দিষ্ট এলাকায় বাস করছেন কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় অবস্থান করছেন।
  • People living in this location: যারা এই নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন।
  • People recently in this location: যারা সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় বসবাস করছেন।
  • People travelling in this location: যারা সাম্প্রতিক সময়ে এই নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন কিন্তু যাদের প্রকৃত বাসস্থান এই নির্দিষ্ট এলাকার ১২৫ মাইল কিংবা ২০০ কিলোমিটার এর বাইরে

পরবর্তী বিষয়ে যাবার আগে চলুন একটি ছোট কেইস দেখে আসা যাকঃ

কেইসঃ একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ঢাকার ৩ টি লোকেশন যথা ধানমন্ডি, গুলশান এবং উত্তরা এর লোকজনের কাছে তাদের ক্যাম্পেইনের মেসেজ পৌঁছাতে চায়। এক্ষেত্রে কিভাবে লোকেশন সিলেক্ট করতে হবে?

সমাধান: আপনি চাইলে “add locations in Bulk” এই ফিচারটি ব্যাবহার করে কাজটি খুব সহজেই করতে পারেন। আপনি “Drop a Pin” অপশনটি ড্রাগ করে আপনার নির্ধারিত লোকেশন কে “Include” বা “Exclude” করতে পারেন। নিচের স্ক্রিনশটে আমি দেখিয়েছি কিভাবে আমি বিভিন্ন লোকেশন কে “Include” বা “Exclude” করেছি।

ফেসবুক মার্কেটিং এ ড্রপ পিনের ব্যবহার করে মাইক্রো-টার্গেটিং

Detailed Targeting: এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার যেটি ফেসবুক মার্কেটারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। আপনার সুবিধামত অডিয়েন্স আপনি তৈরি করতে পারবেন এই অপশনের মাধ্যমে। ফেসবুক ডিটেইলড টার্গেটিং এ তিনটি অপশন রয়েছে সেগুলো হলঃ

  • Demographics
  • Interests
  • Behavior

কেইস: একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড নির্দিষ্ট কিছু নির্দিষ্ট বিশবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে টার্গেট করতে চাচ্ছে।

সমাধান: এক্ষেত্রে নিচের নিচের ধাপটি অনুসরণ করলেই আপনি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থীদেরকে টার্গেট করতে পারবেন।

Demographics > Educations > School > Insert your desired institute name

ফেসবুক মার্কেটিং এ ডিটেইল টার্গেটিং

উপড়ের স্ক্রিনশট খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে যে “Narrow Audience” নামে একটি অপশন দেখা যাচ্ছে যেটি ব্যাবহার করে উপরে উল্লিখিত অডিয়েন্স কে আরো স্পেসিফিক করা সম্ভব।

ব্যাস, উপরিল্লিখিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত সেইভড অডিয়েন্স পেতে পারেন।

N.B: কিছু কিছু স্পেসিফিক বিষয় খুঁজে নাও পাওয়া যেতে পারে কারণ ফেসবুকের কাছে ঐ বিষয়ের পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

বিশেষ সতর্কতা!!!!

অমুক স্যার, তমুক স্যারের প্ররোচনায় পড়ে চৌধুরী বাড়ির ছেলে, মিয়া বাড়ির মেয়ে, পাড়ার দুষ্টু ছেলে, নানার নামে, দাদার নামে, চাচার নামে ফেসবুক পেইজ তৈরি করে ফেইক লাইক বাড়ানো, ফেইক আইডি তৈরি করে ফেইক মার্কেটিং থেকে বিরত থাকুন। এটি কোন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নয় বরং এটি একটি ফেইক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করলে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বব্যাপী আপনি কাজ করতে পারবেন। চাইলে ফ্রিল্যান্সিং ও করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং শেখার নামে সময় নষ্ট করে ফেইক মার্কেটিং না শিখে সঠিক দক্ষতা অর্জন করুন, কাজই আপনার পেছনে ছুটতে থাকবে 

নছিমন মার্কা ফেইক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি থেকে সাবধান!!!

Free Training

on Strategic & Data Driven Facebook Marketing

Enroll Now for FREE
Article Continues

বেস্ট প্র্যাকটিসঃ

  • মাল্টিপল অডিয়েন্স তৈরি করা এবং মাল্টিপল এ্যাডসেট ঐ অডিয়েন্স গুলোকে টেস্ট করে দেখা কোনটি আপনার “Campaign Objective” সবথেকে ভালো মিট করছে।
  • স্প্লিট টেস্ট করে দেখা
  • “Campaign Budget Optimization” এই ফিচারটি ব্যাবহার করা। (সতর্কবাণী নিচে দেয়া আছে)

N.B: যদিও “Campaign Budget Optimization” এই ফিচারটি ব্যাবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। নিচের কেইসটি দেখে আসা যাক।

কেইস: ধরুন আপনি তিন সেট অডিয়েন্স তৈরি করেছেন যাদের নিচের মত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজের অডিয়েন্স আছে

  • Adset-1 এ অডিয়েন্স- ১ সেট করা হয়েছে যেখানে অডিয়েন্স এর সাইজ ৫ লাখ
  • Adset-2 এ অডিয়েন্স-২ সেট করা হয়েছে যেখানে অডিয়েন্স এর সাইজ ১ লাখ
  • Adset-3 এ অডিয়েন্স- ৩ সেট করা হয়েছে যেখানে অডিয়েন্স এর সাইজ ৫০ হাজার

আপনি যদি “Campaign Budget Optimization” এই অপশনটি সিলেক্ট করে রাখেন সেক্ষেত্রে এই কেইস এ কি ধরণের ঘটনা ঘটবে? একটু মাথা খাটিয়ে নিচের উত্তরে খেয়াল করুন 🙂

উত্তরঃ সেক্ষেত্রে ফেসবুক অডিয়েন্স সেট -১ কে প্রাধান্য দিবে কারণ এই সেটে অনেক বেশি অডিয়েন্স বিদ্যমান। সুতরাং “Campaign Budget Optimization” ফিচার ব্যাবহারের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

Connections: এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অপশন যার মাধ্যমে আপনি চাইলে আপনার সাথে কানেক্টেড ফেসবুক পেইজ, এ্যাপ কিংবা ইভেন্টের সাথে যুক্ত ফ্যানদের সমন্বয়ে অথবা তাদেরকে বাদ দিয়ে একটি অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে পারেন। নিচের কেইস টি দেখলেই আশা করছি আপনি বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

কেইস: ধরুন আপনি একটি অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে চান যেখানে নিচের বৈশিষ্ট গুলো থাকতে হবেঃ

  • আপনার নির্দিষ্ট পেইজের ফ্যান হতে হবে [এবং]
  • বয়স ১৮-৩০ এর ভেতর হতে হবে [এবং]
  • Gender হতে হবে Female

সমাধান: সেক্ষেত্রে আপনাকে সেইভড অডিয়েন্স এর বয়স ১৮-৩০ সিলেক্ট করতে হবে, তারপর Gender সিলেক্ট করতে হবে Female এবং সবশেষে Connections থেকে আপনার নির্ধারিত পেইজ টি সিলেক্ট করতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং এ কানেকশনের ব্যবহার করে সেইভড অডিয়েন্স তৈরি করার পদ্ধতি

আপনি শুধু ঐ নির্দিষ্ট পেইজের ফ্যানদেরকে নিয়েই নয় বরং ঐ ফ্যানদের বন্ধুদেরকেও যুক্ত করতে পারবেন এই ফিচারের সাহায্যে।

N.B: আপনি চাইলে একটি চমৎকার স্ট্রাটেজি ব্যাবহার করতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি বেবি প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করেন। আপনার প্রডাক্ট প্রমোশনের জন্য একটি পেইজ রয়েছে এবং আপনি অন্য আরেকটি পেইজ ম্যানেজ করছেন যেখানে শুধুমাত্র বেবি বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় পেইজে আপনি কোন ধরণের প্রডাক্ট প্রমোশন করছেন না শুধুমাত্র বিভিন্ন আলোচনা করছেন, টিপস দিচ্ছেন ইত্যাদি। এই পেইজে আপনার যারা অডিয়েন্স এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে তারা এই বিষয়ে আগ্রহী বলেই আপনার পেইজে এনগেইজ হচ্ছেন। এ ধরণের পেইজের অডিয়েন্স দিয়ে আপনি যদি একটি অডিয়েন্স সেট তৈরি করেন সেক্ষেত্রে আপনি ভালো ফলাফল পেতে পারেন।

Broad Audience বনাম Narrow Audience

একেবারে নতুন একটি ক্যাম্পেইন এর ক্ষেত্রে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত Broad Audience নিয়ে কাজ শুরু করা এবং ধীরে ধীরে স্প্লিট করে দেখা আসলে কোন ধরণের অডিয়েন্স ভালো কাজ করছে। সত্যি বলতে এর কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। ব্র্যান্ড এর বিভিন্ন বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই অডিয়েন্স সেট তৈরি করা উচিত। আসলে যেকোন ক্যাম্পেইন সেট করার পরে সেটাকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং এবং অপটিমাইজেশন করার পরেই সেই ক্যাম্পেইন থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। আমি এক্ষেত্রে একটি পদ্ধতি অবলম্বন করি সেটি নিচে দেওয়া হলঃ

Design > Measure > Analyze > Improve > Control

ফেসবুক মার্কেটিং এ – Custom অডিয়েন্স

Custom audience নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যেখানে কাস্টম কোন ফিচার ব্যাবহার করে অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। আপনি তখনই কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে পারবেন যখন আপনার কাছে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক ইনফরমেশন, কাস্টমারের তথ্য, এ্যাপের এ্যাক্টিভিটি, ভিডিও ভিউ ইত্যাদি বিষয়গুলো থাকবে।

উদাহরণ ১ঃ আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ফেইসবুক পিক্সেল ব্যাবহার করেছেন যেটি আপনার ফেসবুকে অবস্থিত ফেইসবুক পিক্সেলে প্রতিনিয়ত তথ্য পাঠাচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি ওয়েবসাইটের ট্রাফিকের বিভিন্ন তথ্য (যেমনঃ নির্দিষ্ট পেইজ ভিজিট, ইভেন্ট যেমন কোন ফর্ম ফিলাপ ইত্যাদি) ব্যবহার করে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন। ফেইসবুক পিক্সেল সর্বশেষ ১৮০ দিনের ওয়েবসাইট ট্রাফিক এর তথ্য সংরক্ষণ করে।

আরো একটি উদাহরণ দেয়া যাকঃ

Example 2: ধরা যাক আপনার কাছে ৫০০০ কাস্টমারের তথ্য যেমন ধরুন ফোন নম্বর রয়েছে, এক্ষেত্রে আপনি আপনি আপনার ৫০০০ কাস্টমারের তথ্য ফেসবুকের কাস্টম অডিয়েন্স সেকশন এ আপলোড করতে পারেন। ধরা যাক আনুমানিক ৮০% তথ্য ফেসবুকের তথ্যের সাথে ম্যাচ করেছে। এক্ষেত্রে আপনি ৪০০০ কাস্টমারের একটি অডিয়েন্স সেট পাবেন।

N.B: ফেসবুক পিক্সেল সেট আপ এবং কনফিগারেশনের ক্ষেত্রে আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Google Tag Manager ব্যাবহার করে থাকি. এ বিষয়ে আমি অন্য একটি আর্টিকেল লিখেছি যেটি এই লিঙ্ক থেকে পাওয়া যাবে ফেসবুক মার্কেটিং পিক্সেল সেট করার পদ্ধতিযেখান থেকে আপনি Google Tag Manager এবং ফেসবুক পিক্সেলের বেসিক ধারণা পাবেন .

Strategic & Data Driven

Digital Marketing Training @2999 BDT

Save 70% Today!
Article Continues

চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ফেসবুকে কিভাবে ওয়েবসাইট ট্রাফিক কিংবা ভিজিটরের তথ্য ব্যাবহার করে কিভাবে Custom Audience তৈরি করা যায়। আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি যে ফেসবুক বিগত ১৮০ দিনের তথ্য সংরক্ষন করে রাখে এবং এই ১৮০ দিনের ভেতর যদি ঐ ভিজিটর ওয়েবসাইটে ফিরে না আসে সেক্ষেত্রে এই পিক্সেল ডাটাবেজ থেকে ঐ ভিজিটরের তথ্য মুছে ফেলা হয়।

ফেসবুক মার্কেটিং এ ওয়েবসাইট ট্রাফিক ব্যবহার করে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি

ধরা যাক আপনার ওয়েবসাইটের কোন নির্দিষ্ট পেইজে যারা গত ৩০ দিনে ভিজিট করেছেন তাদেরকে নিয়ে আপনি একটি অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে উপড়ে দেওয়া স্ক্রিনশটের মত করে “People Who Visited Specific Web Pages” এই অপশন টি সিলেক্ট করতে হবে এবং কত দিনের তথ্য চাচ্ছেন সেটি বসাতে হবে। আমরা যেহেতু ৩০ দিনের তথ্য চাচ্ছি সেক্ষেত্রে ৩০ দিন উল্লেখে করা হয়েছে।

আপনি চাইলে আরো কিছু প্যারামিটার উল্লেখ করতে পারেন। উপড়ের স্ক্রিনশটের নিচের দিকে আরো কিছু অপশন রয়েছে যেমন Frequency & Device. যেমন ধরুন আপনি চাচ্ছেন আপনার নির্দিষ্ট পেইজে যারা ২ বার ভিজিট করেছেন তাদের তথ্য দিয়ে আপনি আপনার অডিয়েন্স তৈরি করবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে Frequency তে ২ উল্লেখ করতে হবে। অথবা আপনি চাচ্ছেন ঐ নির্দিষ্ট পেইজে যারা ডেস্কটপ থেকে ভিজিট করেছেন তাদের নিয়ে অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে সেক্ষেত্রে Device অপশনে গিয়ে ডেস্কটপ সিলেক্ট করতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং এ কাস্টম অডিয়েন্সের ক্ষেত্রে ডিভাইস সেগমেন্টেশন

আপনি চাইলে “Visitors Time by Spent” কিংবা বিভিন্ন Event এ যারা হিট করেছে তাদেরকে নিয়েও অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে পারেন। যেমন ধরুন ঐ নির্দিষ্ট পেইজে টপ ২৫% ভিজিটর দের কে নিয়েও আপনি চাইল অডিয়েন্স সেট তৈরি করতে পারেন।

ফেসবুক মার্কেটিং এ কাস্টম অডিয়েন্সের ক্ষেত্রে সময় অনুযায়ী সেগমেন্টেশন

N.B: অতি সম্প্রতি আমি অডিয়েন্স এর নির্দিষ্ট Behavior কে ট্র্যাক করে কিভাবে Custom Audience তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আরো একটি চমচকার ব্লগ পোস্ট করেছি যে আপনি এই লিঙ্ক থেকে পেতে পারেনঃ Google Tag Manager ব্যাবহার করে Facebook Scroll Tracking Event ট্র্যাকিং করা

ফেসবুক মার্কেটিং এ Lookalike অডিয়েন্স

লুক এ লাইক শুনেই বোঝা যাচ্ছে সমজাতীয় কোন কিছু। যেমন ধরুন কিছুক্ষণ আগে আমরা একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করেছি। যে অডিয়েন্স আমরা তৈরি করেছি তাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন প্যারামিটার নিয়ে যখন একটি অডিয়েন্স তৈরি করা হয় তখন তাকে লুক এ লাইক অডিয়েন্স বলা হয়। আপনি চাইলে ১% থেজে ১০% লুক এ লাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন। ধরুন আপনি একটি কাস্টম অডিয়েন্স এর ১% লুক এ লাইক অডিয়েন্স তৈরি করছেন তার মানে হল সেই নির্দিষ্ট কাস্টম অডিয়েন্সের সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্যারামিটার নিয়ে একটি অডিয়েন্স সেট তৈরি করা হল।

সেইভড অডিয়েন্স + কাস্টম/লুক এ লাইক অডিয়েন্স

Strategic & Data Driven

Digital Marketing Training @2999 BDT

Save 70% Today!
Article Continues

উপসংহার: আমি বুঝতে পেরেছি যে এতকিছু পড়ার পর আপনি নিশ্চিয়ই অনেক বিরক্ত তবে আমি খুবই আশাবাদী মানুষ এবং বিশ্বাস করি যে আপনি ইতিমধ্যে ফেসবুক মার্কেটিং এ অডিয়েন্স তৈরির ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ আইডিয়া পেয়েছেন। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি নিচের কিছু বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

  • যদি আপনার কাছে পূর্বের কোন কাস্টমারের তথ্য যেমন ফোন নম্বর, ইমেইল এ্যাড্রেস এগুলোর কোনটিই না থাকে কিংবা আপনার ওয়েবসাইট এ “ফেইসবুক পিক্সেল” সেট না করা থাকে সেক্ষেত্রে “সেইভড অডিয়েন্স” ই আপনার একমাত্র ভরসা।
  • যদি আপনার কাছে কাস্টমারের তথ্য যেমন ফোন নম্বর বা ইমেইল এ্যাড্রেস থাকে সেক্ষেত্রে আপনি এই তথ্যগুলো ব্যাবহার করে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন এবং কাস্টম অডিয়েন্স ব্যাবহার করে লুক এ লাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন।
  • আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে ফেসবুক পিক্সেল ব্যাবহার করেন সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট ট্রাফিক এর বিভিন্ন তথ্য কে কাজে লাগিয়ে আপনি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন এবং কাস্টম অডিয়েন্স ব্যাবহার করে লুক এ লাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন।
  • আপনি চাইলে কাস্টম অডিয়েন্স কিংবা লুক এ লাইক অডিয়েন্স কে আরো সংকুচিত করতে পারেন সেইভড অডিয়েন্স এর বিভিন্ন প্যারামিটার ব্যাবহার করে। যেমন ধরুন আপনি

জানি আপনাদের অনেক কষ্ট হল পড়তে আর আপনি যদি নিচের ভিডিও টি দেখেন তাহলেও কিন্তু বিষয়গুলো নিয়ে খুব ভালো ধারণা আপনি পেয়ে যাবেন।

লেখক পরিচিতিঃ

এই ব্লগ পোস্টটি লিখেছেন টি৩ কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি । কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক এর ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হিসেবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে অর্জন করেন বেসিস আউটসোর্সিং এ্যাওয়ার্ড। ইল্যান্স-ওডেস্ক (বর্তমান আপওয়ার্ক) এ্যানুয়াল ইম্প্যাক্ট রিপোর্টে উঠে এসেছে তার সফলতার গল্প। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মোঃ নাজমুল হোসেন

Popular Blog

7 comments on “ ফেসবুক মার্কেটিং এ সঠিকভাবে অডিয়েন্স নির্বাচনের পদ্ধতি

Leave a Comments

0
0 item
My Cart
Empty Cart